প্রধান শিক্ষকের বাণী

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন!

আমি অত্যন্ত আনন্দ এবং গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় তার দীর্ঘ পথচলায় এক গৌরবময় ইতিহাস গড়েছে। ১৯৬৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে ছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে—শিক্ষার আলোকে ছড়িয়ে দেওয়া, সমাজে শিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক মানুষ তৈরি করা। আজ সেই স্বপ্ন অনেকটাই বাস্তব, এবং এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে।

আমাদের এই বিদ্যালয়টি সিরাজগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চেষ্টা করে যাচ্ছি মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক উন্নয়ন ঘটাতে। এই বিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার কেন্দ্র নয়, বরং এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

আমাদের লক্ষ্য ও দর্শন

আমাদের লক্ষ্য হলো — এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বরং জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিও অর্জন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, সংস্কৃতি চর্চা, ক্রীড়া এবং সামাজিক সচেতনতা।

এই জন্যই হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা পাঠ্য কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক সেবামূলক কাজ আয়োজন করে থাকি। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি বার্তা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা,
তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। এই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তোমরা শুধু পাঠ গ্রহণ করো না, তোমরা বড় হয়ে ওঠো একজন মানবিক, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে। মনে রেখো, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেটের জন্য নয়, এটি একটি আলো যা তোমার সারা জীবনের পথকে আলোকিত করে।

আমার আবেদন থাকবে, সময়কে মূল্য দাও, শৃঙ্খলাপরায়ণ হও এবং নিয়মিত অধ্যয়ন করো। প্রযুক্তির এই যুগে গঠনমূলক প্রযুক্তি ব্যবহার শিখো, কিন্তু তার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকো। তোমরা যদি মন দিয়ে চেষ্টা করো, তবে কোনো বাধাই তোমাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা

আমি এই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিভাবক, স্থানীয় জনগণ এবং শিক্ষা-অনুরাগী সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন বলেই আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। আপনারা আমাদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন, সময় দিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন—এসব আমাদের জন্য মূল্যবান সহায়তা।

আমি সবসময় বিশ্বাস করি, বিদ্যালয়, অভিভাবক ও সমাজ এই তিনটি স্তম্ভ একত্রে কাজ করলে শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়। ভবিষ্যতেও আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।

শিক্ষকবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা

আমাদের প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছেন আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। তাঁরা শুধু পাঠদান করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনগঠনে আত্মনিয়োগ করে থাকেন। কঠিন সময়ে, সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তাঁরা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন নিষ্ঠা ও মমতার সঙ্গে।

একজন শিক্ষকই পারেন একটি জাতিকে আলোকিত করতে। তাই আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বর্তমানে হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, একটি সুন্দর খেলার মাঠ, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আমরা নিয়মিত ভাবে পাঠদান, মূল্যায়ন এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

তবে, আমরা এখানে থেমে থাকতে চাই না। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য হলো—একটি ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ স্থাপন, আরও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব তৈরি, শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাউন্সেলিং ব্যবস্থার প্রচলন করা।

শেষ কথা

সবশেষে আমি বলতে চাই, হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তা সম্ভব হয়েছে একান্তই আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। এই সাফল্যের গাঁথা আরও উজ্জ্বল হোক—এই কামনাই করি।

আমি প্রত্যাশা করি, আমরা সবাই মিলে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পারব। শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের লক্ষ্য খুঁজে নিতে পারে, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে—সেই দিকেই আমাদের চলার পথ।

শুভ কামনা সকলের জন্য।

ধন্যবাদান্তে,
মোঃ ইসরাইল হোসেন
প্রধান শিক্ষক
হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়
সিরাজগঞ্জ